জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় দাফনের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক বৃদ্ধার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, ওই নারী এখনও জীবিত। সেই সন্দেহ থেকেই মরদেহ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত বলে নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর মাহমুদপুর গ্রামের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী হালিমা খাতুন বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার গভীর রাতে মারা যান। পরদিন শনিবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দাফনের পর থেকেই হালিমা খাতুনের মানসিকভাবে অসুস্থ মেয়ে সুলতানা বারবার দাবি করতে থাকেন যে তার মা এখনও বেঁচে আছেন। শুরুতে পরিবারের অন্য সদস্যরা বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে তার অনুরোধে বিষয়টি নিয়ে তারা নতুন করে ভাবতে শুরু করেন।
শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে পরিবারের সদস্যরা কবর খুলে মরদেহ বের করেন। স্বজনদের দাবি, মরদেহের হাত-পায়ে সামান্য নড়াচড়ার মতো অনুভূতি হওয়ায় তারা নিশ্চিত হতে দ্রুত মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ওই নারী আগেই মারা গেছেন।
এরপরও পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ পুরোপুরি দূর না হওয়ায় তারা মরদেহটি জামালপুরের আরও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকেরাও পরীক্ষা করে একই সিদ্ধান্ত জানান। সবশেষে রাতেই মরদেহটি আবার পারিবারিক কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।
হালিমা খাতুনের ছেলে হুমায়ূন কবির জানান, তার বোনের বারবার অনুরোধ এবং মরদেহে নড়াচড়ার মতো অনুভূতি পাওয়ার কারণেই তারা কবর খুলে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে একাধিক চিকিৎসকের পরীক্ষার পর তারা নিশ্চিত হন যে তাদের মা দাফনের আগেই মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, ঘটনাটি ঘটার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তবে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে ওই নারীকে মৃত ঘোষণা করেছিলেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এরপরও পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হওয়ার উদ্দেশ্যে অন্য হাসপাতালেও নিয়ে যান।
এদিকে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ঘটনাটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।
