১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে নিজ বাসা থেকে জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রায় তিন দশক ধরে চলছে বিতর্ক ও আইনি লড়াই।
সম্প্রতি হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ডন গ্রেপ্তার হওয়ার পর মামলাটি আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। এ সময় দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও বিচার সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।
লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, ছেলের মৃত্যুর পর মামলা নিয়ে আর এগোবেন না—এমন শর্তে তাকে ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় পার্টির তৎকালীন একজন মন্ত্রী সেই প্রস্তাব নিয়ে তাদের বাসায় গিয়েছিলেন।
নীলা চৌধুরী বলেন, তাকে বলা হয়েছিল এই ঘটনা নিয়ে আর কথা না বললে বিপুল অঙ্কের অর্থ দেওয়া হবে। কিন্তু তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, টাকা নয়, তিনি তার ছেলেকে ফিরে চান—তাই সেই প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সালমান শাহর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে। তবুও কোনো চাপ বা প্রলোভন তাকে বিচার দাবির অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরী সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরার বিচারও দাবি করেন। তবে তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা সেখানে যাচাই বা নিশ্চিত করা হয়নি।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। তার দাবি, সালমান শাবনূরকে ছোট বোনের মতো স্নেহ করতেন এবং ক্যারিয়ারে সহযোগিতা করেছিলেন।
দীর্ঘ ৩০ বছরের এই আলোচিত মামলায় সালমান শাহর পরিবার ও অসংখ্য ভক্তের প্রত্যাশা—দ্রুত তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে একদিন প্রকৃত সত্য সবার সামনে প্রকাশ পাবে।
