নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট আকস্মিক পানির স্রোতে নেপাল ও চীনের তিব্বত অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় দেড় হাজার মানুষ।
বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলের রাসুয়া জেলার ভোতে কোশি নদী এলাকায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যে পানির স্রোত নদীর আশপাশের বসতি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামোর ওপর আছড়ে পড়ে। তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ভূমিকম্পের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, হিমবাহের একটি অংশ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট বরফ ও পাথরের ধস থেকেই ভয়াবহ পানির স্রোত তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
দুর্যোগের কারণে বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
বন্যার পানিতে বেশ কিছু গ্রাম ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোকে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে হচ্ছে।
নেপালের পাশাপাশি তিব্বতেও উদ্ধার তৎপরতা চলছে। বিপুলসংখ্যক উদ্ধারকর্মী নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করছেন। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধ্বংসস্তূপ ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে এই বন্যার প্রভাবে ভারতের উত্তরাঞ্চলেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিহার ও উত্তর প্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, উদ্ধার অভিযান যত এগোবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
