বাবার কাছ থেকে পাওয়া জমিতে ধারদেনা করে বাড়ি তৈরি করেছিলাম। সেই দেনা পরিশোধের জন্য বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলাম। কিন্তু ভাড়ার টাকা না পেয়ে একসময় বাড়িটি ভাড়াটের দখলে চলে যায়।’—সামাজিক মাধ্যমে দিলারা জামানের নামে এমন একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় আলোচনা।
শুক্রবার সকাল থেকে অভিনেত্রীর নামে একটি ফটোকাড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁর ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তবে বিষয়টি জানতে পেরে অবাক হওয়ার পাশাপাশি বিরক্তিও প্রকাশ করেন দিলারা জামান। তাঁর দাবি, প্রচারিত বক্তব্যের সঙ্গে তাঁর বর্তমান জীবনের কোনো সম্পর্ক নেই।
শুক্রবার বিকেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিলারা জামান অনেকটা বিস্ময়ের সুরে বলেন, তথ্য প্রকাশের আগে একটু যাচাই-বাছাই করে নেওয়া উচিত। তাঁর ভাষ্য, ভালো কাজে যেমন মেধার প্রয়োজন, তেমনি কোনো তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা দরকার।
তবে অভিনেত্রীর বাড়ি দখলের ঘটনা যে কখনো ঘটেনি, বিষয়টি এমন নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রায় দুই যুগ আগের একটি ঘটনা। দিলারা জামান জানান, ২০০৩-২০০৪ সালের দিকে তিনি ঢাকার শ্যামলী এলাকায় পৈতৃক বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। সে সময় ওই বাড়ি দখলের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে নড়াচড়া শুরু হয়। এরপর বাড়িটি দখলের পরিস্থিতি আর এগোয়নি। তবে পরবর্তী সময়ে ওই বাড়িটি আর তাঁর মালিকানায় থাকেনি।
দিলারা জামান জানান, শ্যামলীর সেই বাড়িটি প্রায় ২২-২৩ বছর আগের ঘটনা। পরে তিনি বাড়িটি বিক্রি করে দেন। ২০০৮ সালে পরিবার নিয়ে উত্তরায় চলে গিয়ে সেখানে প্রায় ১ হাজার ৬০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনেন। এরপর থেকে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি।
দেশের বাইরে থাকা দুই মেয়ের কাছে মাঝে মাঝে গেলেও বর্তমানে বিদেশে যাতায়াত খুব একটা হয় না বলে জানান এই অভিনেত্রী। অভিনয়ের কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় কাটছে তাঁর। নিজের উত্তরার ফ্ল্যাটেই এখন তাঁর নিয়মিত বসবাস।
এত বছর আগের একটি ঘটনাকে নতুন করে বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে ছড়িয়ে দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন দিলারা জামান। হঠাৎ করে এমন তথ্য কীভাবে সামনে এলো, সেটি নিয়েও তিনি নিজে অবাক হয়েছেন বলে জানান।
