নালা খুঁড়তে গিয়ে ৯৮ কোটি টাকার স্বর্ণ পেল ১৮ বছরের তরুণ!
বেলজিয়ামে নালা নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে অবিশ্বাস্য এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এক তরুণ। মাটির নিচে পাইপ বসানোর সময় তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা খুঁজে পান প্রায় ৯০ লাখ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৮ কোটি টাকার সমমূল্য) মূল্যের স্বর্ণ ও মূল্যবান মুদ্রা।
রোববার (১৬ আগস্ট) প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ব্রাসেলস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের সেন্ট-গিলিস-ডেন্ডারমন্ডে এলাকায় পুরোনো নালা লাইনের পাইপ পরিবর্তনের কাজ চলছিল। সেখানে গ্রীষ্মকালীন কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন তরুণ কোবে।
কোবে জানান, শুরুতে মাটির নিচে পাওয়া ধাতব বস্তুগুলো সাধারণ এক ইউরোর কয়েন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই একটি স্বর্ণের বার চোখে পড়ে। এরপর খনন চালিয়ে পাওয়া যায় অসংখ্য স্বর্ণমুদ্রা, স্বর্ণের টুকরা এবং নম্বরযুক্ত স্বর্ণবার।
তদন্তে জানা গেছে, সব মূল্যবান সামগ্রী একটি ব্যাগে ভরা ছিল এবং সেটি একটি পুরোনো ভবনের ভূগর্ভস্থ কক্ষে ইট দিয়ে বন্ধ করা দেয়ালের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটি উনিশ শতকের শেষ দিকে মদ ব্যবসায়ী থিওফিলাস ভ্যান অ্যাশে-এর জন্য নির্মিত হয়। সেখানে ১৮৯৯ সালে মদ উৎপাদন শুরু হলেও ১৯৭০ সালে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে ভবনটি সংস্কার করে অফিস ও আবাসন তৈরির কাজ চলছে।
স্বর্ণ উদ্ধারের পরপরই পুরো এলাকা নিরাপত্তার আওতায় নেওয়া হয়। পরে উদ্ধার হওয়া সব স্বর্ণ ও মূল্যবান সামগ্রী ব্রাসেলসের একটি নিরাপদ ভল্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পূর্ব ফ্লান্ডারসের প্রসিকিউটর কার্যালয় জানিয়েছে, এসব স্বর্ণ চুরি করা হয়েছিল কি না বা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত কি না, তা আগে যাচাই করা হবে। এরপর প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বেলজিয়ামের আইন অনুযায়ী, এমন সম্পদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বৈধ দাবিদারের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ভবনের মালিক, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এবং ভ্যান অ্যাশে পরিবারের উত্তরসূরিরা সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন।
এদিকে, জীবনের সবচেয়ে বড় আবিষ্কারের সাক্ষী হওয়া কোবে আশা করছেন, এই গুপ্তধন খুঁজে পাওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা অন্তত একটি সম্মানী বা পুরস্কার পাবেন।
