ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এই তিন রাজনৈতিক শক্তিকে ঘিরে ভোটের মাঠে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
এনসিপি ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণ সিটিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও দুই দলই সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিএনপি ঢাকা উত্তরে মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং দক্ষিণে মো. আবদুস সালামকে ঘিরে এগোচ্ছে। দুজনেরই সিটি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যেও অভিজ্ঞতা ও পরিচিতির ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। ঢাকা উত্তরে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে মো. আবু সাদিক (সাদিক কায়েম)-এর নাম আলোচনায় রয়েছে। সেলিম উদ্দিন দলটির ঢাকা মহানগর উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, আর সাদিক কায়েম ডাকসুর ভিপি হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে এনসিপি বেছে নিয়েছে নতুন রাজনৈতিক ধারার পরিচিত দুই মুখকে। আসিফ মাহমুদের জন্য এটি হবে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় পরীক্ষা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবশ্য জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তিন দলের প্রার্থী বাছাইয়ের ধরনেও পার্থক্য রয়েছে। বিএনপি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে, জামায়াত সামনে আনছে দলীয় সংগঠন ও পরিচিত মুখকে, আর এনসিপি ভরসা করছে জুলাই-পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক পরিচিতির ওপর।
এ কারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুধু মেয়র নির্বাচনের লড়াই নয়, বরং রাজধানীতে কোন রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা কতটা—তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক শক্তি ও দলীয় সমর্থনের মধ্যে কোনটি ভোটারদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
