রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এক ছাত্রী। ফল প্রকাশের পর সে জানতে পারে, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে তার ফল ভালো হয়নি।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফলাফল নিয়ে ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। দুপুরের দিকে নিজ কক্ষে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তার কোনো সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন না। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান স্বজনেরা। দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
ছাত্রীর বাবা কাঞ্চন কুমার বলেন, তাঁর মেয়ে পড়াশোনায় ভালো ছিল। অনেক কষ্ট করে তাকে লেখাপড়া করাচ্ছিলেন। হঠাৎ এমন ঘটনায় তিনি কী বলবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সাত্তার জানান, এবার তাদের বিদ্যালয়ের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। মোট ৩২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৬ জন পাস করেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ছাত্রীটি পড়াশোনায় ভালো ছিল। তবে তার ফল কেন খারাপ হলো, সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ফল প্রকাশের পর সে জানতে পারে, অন্য বিষয়গুলোতে পাস করলেও ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়েছে। এরপর বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনেরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা শাহরিনা ইসলাম জানান, দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষার্থী উপজেলার একটি উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থী ছিল। ফলাফল প্রত্যাশামতো না হওয়ায় সে হতাশ হয়ে পড়েছিল বলে স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিউর রহমান।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শফিউল আজম বলেন, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া কোনোভাবেই জীবনের শেষ নয়। শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি মনে করেন, শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার প্রভাবও অনেক সময় অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে।
