কুষ্টিয়ায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি মঙ্গলবার দুপুরের দিকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের সামনে নির্মিত হয়েছে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভটি। স্মৃতিস্তম্ভটির নিরাপত্তায় প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
‘কুষ্টিয়া ইনসাইডারস’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রথমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা গেছে। পরে বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে সেটি শেয়ার করা হয়। নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের কয়েকজনও ভিডিওটি শেয়ার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের কোনো এক সময়ে এক ব্যক্তি একটি বোতল দিয়ে স্মৃতিস্তম্ভের ওপর তরলজাতীয় পদার্থ ছিটাচ্ছেন। এরপর তিনি একটি মেসের কাঠি জ্বালিয়ে সেটি স্মৃতিস্তম্ভের দিকে ছুড়ে দেন। আগুন জ্বলে উঠলে ওই ব্যক্তিকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যেতে দেখা যায়।
ভিডিওতে ওই ব্যক্তির সঙ্গে থাকা বা ধারণকারী একজনের কণ্ঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগানও শোনা যায়। এর মধ্যে ‘ভয় করি না বুলেট বোমা, শেখ হাসিনা আসবে-বাংলাদেশ হাসবে’, ‘আমার সোনার বাংলায় রাজাকারের ঠাঁই নাই’, ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘হানিফ সাহেবের ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’—এ ধরনের স্লোগান রয়েছে।
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, বক্তা জুলাইয়ের ঘটনাকে অস্বীকার করার কথা বলছেন এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি আওয়ামী লীগের পাশে থাকার আহ্বান জানান এবং কয়েকবার ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার, কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বরসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন জানান, স্মৃতিস্তম্ভে কালো দাগ দেখা গেছে। তবে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তায় একজন এএসআইয়ের নেতৃত্বে দুজন কনস্টেবল দায়িত্ব পালন করেন। ঘটনার সময়ও তাঁদের সেখানে থাকার কথা ছিল। দায়িত্বে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জাকির হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভে পুলিশি নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ঘটনাটি ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
