টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মারা যাওয়া এক নারীকে ঘিরে অদ্ভুত এক ঘটনার জন্ম হয়েছে। দাফনের দুই দিন পর এক ওঝা দাবি করেন, বিশেষ ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে ওই নারীকে আবারও জীবিত করা সম্ভব। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে ঘটনাটির ভিডিও।
শনিবার (১৬ আগস্ট) উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত নারীর নাম হাসনা বেগম (৫৮)। তিনি সখীপুরের হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিষধর সাপের কামড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন হাসনা বেগম। পরে তাঁকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করেন। এরপর মেয়ের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
এদিকে সাপে কাটার ঘটনা জানার পর গাজী মিয়া নামে এক ওঝা সেখানে উপস্থিত হন। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম প্রকৃতপক্ষে মারা যাননি এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করলে তাঁকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। পরে কবরের এক পাশে সামান্য মাটি সরিয়ে গন্ধ পরীক্ষা করেন তিনি। এরপর সেখানে তেলের গন্ধ পাওয়ার কথা জানিয়ে নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
ওঝার এমন বক্তব্য দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কবরস্থানে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। তিনি নিহত নারীর মেয়ে খালেদা বেগমকে জানান, আগামী মঙ্গলবার আবার এসে পরিস্থিতি পরীক্ষা করবেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, মরদেহে পচন না ধরলে ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে সাপের বিষ নামিয়ে ওই নারীকে জীবিত করা সম্ভব হতে পারে।
মেয়ে খালেদা বেগম জানান, মাকে আবার ফিরে পাওয়ার আশায় তিনি কিছু সময়ের জন্য বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন। তবে পরে গাজী মিয়া ফোন করে জানান, ধ্যানের মাধ্যমে তিনি বুঝতে পেরেছেন যে হাসনা বেগম আর জীবিত নন এবং তাঁকে ফিরিয়ে আনার কোনো উপায় নেই।
পরে যোগাযোগ করা হলে ওঝা গাজী মিয়াও স্বীকার করেন যে প্রথমে তিনি ভিন্ন ধারণা পোষণ করলেও বর্তমানে মনে করছেন ওই নারীকে আর বাঁচানো সম্ভব নয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, চিকিৎসকের মাধ্যমে মৃত ঘোষণার পর দাফন করা কোনো ব্যক্তিকে ঝাড়ফুঁক করে জীবিত করার দাবি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক। তাঁর মতে, সাপের কামড়ে মৃত্যুর পর কবর দেওয়ার কয়েক দিন পরে কাউকে পুনরুজ্জীবিত করার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই
