স্কটল্যান্ডের একটি খননস্থলে প্রত্নতত্ত্ববিদরা এমন এক আবিষ্কার করেছেন, যা ইতিহাসপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। একটি সাধারণ পাথরের গর্ত ভেবে খনন শুরু হলেও, ধীরে ধীরে মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে আসে প্রায় ২ হাজার বছর পুরোনো এক নারীর কঙ্কাল। এই আবিষ্কারকে আয়রন এজ যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সন্ধান বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জায়গাটি প্রথমে একটি গোলাকার পাথরের কাঠামো হিসেবে শনাক্ত হয়। পরে স্তরভিত্তিক খনন চালিয়ে মানুষের দেহাবশেষের পাশাপাশি প্রাণীর হাড়, পোড়া ছাই এবং সাবানপাথরের তৈরি একটি প্রাচীন পাত্রের অংশও উদ্ধার করা হয়। এসব নিদর্শন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো ধর্মীয় আচার বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত স্থান ছিল।
সবচেয়ে রহস্যের বিষয় হলো—নারীটির কঙ্কালটি গর্তের একেবারে নিচের স্তরে পাওয়া গেছে। তিনি কে ছিলেন, কীভাবে সেখানে পৌঁছেছিলেন কিংবা এটি স্বাভাবিক সমাধি নাকি কোনো আচার-অনুষ্ঠানের অংশ—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। প্রত্নতত্ত্ববিদরা ডিএনএ ও কার্বন বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার পরিচয় এবং মৃত্যুর সময়কাল নির্ধারণের কাজ করছেন।
স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, প্রায় দুই হাজার বছর আগে এই অঞ্চলটি আয়রন এজ জনগোষ্ঠীর বসতি ছিল। সে সময় পাথরের বৃত্ত, আগুনের ছাই এবং পশুর হাড় ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। ফলে নতুন এই আবিষ্কার সেই যুগের সামাজিক ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
বর্তমানে পুরো এলাকাটি সংরক্ষণে রাখা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া সব নিদর্শন পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। গবেষণা শেষ হলে এই রহস্যময় নারীর পরিচয় এবং পাথরের গর্তটির প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রত্নতত্ত্ববিদরা।
