রংপুরের চার খুনে নতুন মোড়, তদন্ত ডিবিতে—উঠছে একাধিক প্রশ্ন
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় তদন্তে নতুন মোড় এসেছে। আলোচিত এই মামলাটি এবার থানা পুলিশের কাছ থেকে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী। গত ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ি থেকে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে তাঁরা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন। পুলিশ জানিয়েছিল, বাড়ির ছাদে মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে।
তবে ঘটনার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই কিছু প্রশ্ন সামনে আসছে। এজাহারে থাকা তথ্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং বাড়ির বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্তের দায়িত্ব ডিবির কাছে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মরদেহের মুখের অবস্থা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। সিআইডির পক্ষ থেকে রাসায়নিক ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হলেও ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, পচনজনিত কারণেই মুখের এমন পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে। চূড়ান্তভাবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক প্রতিবেদনের প্রয়োজন হবে।
এখন ডিবির তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কতটা স্পষ্ট হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
