ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় কাস্টমস সিপাহী আবু রায়হান তালুকদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক মাসের বেশি সময় পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একজন নিহতের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু এবং অন্যজন তার বন্ধু জিতুল। বুধবার (২৬ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
নিহত আবু রায়হান তালুকদার ঢাকার কমলাপুর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত জুলাইয়ে তিনি কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়ি ফুলবাড়িয়ার সোয়াইতপুর গ্রামে যান। এরপর কর্মস্থলে ফিরে না যাওয়ায় স্বজন ও সহকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুলও এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। বিষয়টি তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এরপর গত ২ আগস্ট রায়হানের বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ ও চাদরে মোড়ানো অবস্থায় তার মরদেহের ১৫টি খণ্ড উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১০ দিন পর এই মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফুলবাড়িয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় রাজু ও জিতুলের নাম উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘ তদন্ত ও অভিযান চালানোর পর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে রাজু ও জিতুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফুলবাড়িয়ায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, ছুরি, লোহার রড, কাঠের গুঁড়ি ও রক্তমাখা বালিশের কাভারসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রায়হানকে তার নিজ ঘরেই হত্যা করা হয়েছিল। পরে মরদেহ খণ্ডিত করে ব্যাগে ভরে বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এখন গ্রেপ্তার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য এবং এর পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
