মরুভূমির প্রাণী হিসেবে পরিচিত দুম্বা এখন কুষ্টিয়ার মিরপুরে বেড়ে উঠছে একেবারে দেশি খাবার ও স্বাভাবিক পরিবেশে। ঘাস, খড়, ভুসি, ছোলা ও ভুট্টার মতো প্রচলিত পশুখাদ্য দিয়েই দুম্বা পালন করে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন স্থানীয় খামারি রাকিবুল ইসলাম।
মিরপুর উপজেলার বহলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহেবনগর গ্রামের এই খামারি ২০২৪ সালের শুরুতে মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে ১৫টি দুম্বা। এরই মধ্যে ছয়টি বড় দুম্বা বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন মোট ১২ লাখ টাকা।
রাকিবুল জানান, পরিচিত একজনের মাধ্যমে নাটোরের একটি দুম্বার খামারের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে প্রাণীটি পালনের বিষয়ে ধারণা নেন। এরপর একটি দুম্বা ও একটি দুম্বি কিনে বাড়িতেই পালন শুরু করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুম্বার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ খাবারের প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য গবাদিপশুর মতোই ঘাস, খড়, ভুসি, ছোলা ও ভুট্টা খাওয়ানো হয়। সকালে খাবার দেওয়ার পর বাইরে ঘাস খেতে দেওয়া হয়। বিকেলে দেওয়া হয় পানি ও প্রয়োজনীয় খাবার।
খামারের পরিচর্যাকারী সুজন হোসেন বলেন, ছাগল, ভেড়া কিংবা গাড়ল যে ধরনের খাবার খায়, দুম্বাকেও প্রায় একই খাবার দেওয়া যায়। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর গোসল করালেই পরিচর্যা করা সম্ভব।
খামারি জানান, একটি দুম্বা বছরে সর্বোচ্চ দুইবার পর্যন্ত বাচ্চা দিতে পারে। বাচ্চা ঘাস খাওয়া শুরু করলে তার দাম প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর বয়স ও আকারভেদে বড় দুম্বা বিক্রি হয় প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত।
বর্তমানে রাকিবুলের খামারে থাকা ১৫টি দুম্বার মধ্যে তিনটি শিগগিরই বাচ্চা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে খামারে দুম্বার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
এর আগে মহিষ পালন করতেন রাকিবুল। কিন্তু অসুস্থতার কারণে সেই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তুলনামূলক কম শারীরিক পরিশ্রমের বিকল্প হিসেবে দুম্বা পালনের উদ্যোগ নেন। ধীরে ধীরে সেটিই এখন তার আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে উঠেছে।
মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহিল কাফী বলেন, বাড়তি আয়োজন ছাড়াই দেশের আবহাওয়ায় ঘরোয়া পরিবেশে দুম্বা পালন করা সম্ভব। সম্ভাব্যতা যাচাই করে বেকার তরুণরা ছোট পরিসরে এ ধরনের খামার গড়ে তুলতে পারেন।
