কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কবর খুঁড়ে পীর শামীম জাহাঙ্গীরের দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দরবার শরিফ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়। এরপর নিরাপত্তার জন্য কবরটি ইট-সিমেন্ট দিয়ে স্থায়ীভাবে বাঁধাই করেছে তাঁর পরিবার।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ফিলিপনগর এলাকার গোরস্থানে পরিবারের সদস্যরা কবরের চারপাশে দেয়াল নির্মাণ করে ওপরে ঢালাই দেন। পরিবারের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে আবারও কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার কবরস্থান থেকে দেহাবশেষ তুলে শামীম জাহাঙ্গীরের প্রতিষ্ঠিত দরবারে নিয়ে দাফন করা হয়। শনিবার সকালে স্বজনেরা কবরটি খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হলে দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে আগের কবরস্থানেই পুনরায় দাফন করা হয়।
পীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, পরিবারের কাউকে না জানিয়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, রাতের আঁধারে কারা কবর খুঁড়ে দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কবরস্থান ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারিও রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দরবারে হামলার ঘটনায় পীর শামীম জাহাঙ্গীর নিহত হন। পরে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে ফিলিপনগর এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস পর কবর থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য দেখা দেয়।
