চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে নির্বাচনের আগে যেভাবে একসঙ্গে কাজ করা হয়েছিল, ভবিষ্যতেও একইভাবে পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় হেফাজতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দফা লিখিত দাবি তুলে দেওয়া হয়।
রোববার বিকেলে ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সকালে কক্সবাজারের মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বাঁশখালীতে ত্রাণ বিতরণ শেষে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মাঠে হেলিকপ্টার অবতরণের পর স্থানীয় নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। পরে সড়কপথে বাবুনগর মাদ্রাসার দিকে রওনা হলে রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেওয়া বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
মাদ্রাসায় পৌঁছানোর পর হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চান তিনি।
বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে জানতে চাইলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে নির্বাচনের আগের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগের মতো ভবিষ্যতেও হেফাজতকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জবাবে হেফাজতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ইসলাম ও দেশের স্বার্থে দৃঢ় থাকার কথা বলা হয়েছে বলে জানান আজিজুল হক। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দফা লিখিত দাবি পেশ করা হয়।
বৈঠকে সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও রাজনৈতিক নেতাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সংসদ সদস্য সরোয়ার আলম ও গিয়াস কাদের চৌধুরী।
বৈঠক শেষে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে হেফাজতের আমিরকে দেওয়া তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি সেখানে এসেছেন। সরকার গঠনের পরপরই রোজা শুরু হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতিতে নানা চাপ তৈরির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের নির্বাচনের সময় সবাই একসঙ্গে কাজ করায় দেশকে একটি সংকট থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছিল। তবে দেশের সমস্যা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। অতীতের সরকারের সময়ে দেশের অর্থসম্পদ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের অভিযোগের কথাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের গ্যাস-সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। বিদ্যুৎ সমস্যার কথাও স্বীকার করে তিনি বলেন, অতীতে পরিকল্পনাহীনভাবে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব এখন দেশের মানুষকে বহন করতে হচ্ছে।
সম্প্রতি দেশে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগের মতো ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। হেফাজতের পক্ষ থেকে দেওয়া দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান।
তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ভালো কিছু করার লক্ষ্যে তিনি সবার দোয়া চান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও বক্তব্য দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধার্মিক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতেও এই সম্পর্ক বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের জন্য সবার দোয়া চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পরে হেফাজতের আমির প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি দেশের কল্যাণ ও শান্তির জন্য দোয়া করেন। দেশকে শত্রুমুক্ত রাখার জন্যও প্রার্থনা করা হয়।
ফটিকছড়ির কর্মসূচি শেষে হাটহাজারীতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে হেফাজতে ইসলামের সাবেক আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কবর জিয়ারত করেন তিনি।
