বুধবার উত্তর গোলার্ধের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দেখা যাবে বছরের অন্যতম আলোচিত সূর্যগ্রহণ। চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আড়াল করলেও এই মহাজাগতিক দৃশ্যের কোনো অংশই বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে না।
প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অন্তত আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পাবেন। তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি বিশ্বের আরও অনেক অঞ্চলের মানুষকে স্বাভাবিক আকাশেই এই সময় পার করতে হবে।
সূর্যগ্রহণ ঘটে তখনই, যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করে সূর্যের আলোকে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেয়। অবস্থানভেদে এটি আংশিক, পূর্ণগ্রাস, বলয়াকার কিংবা সংকর সূর্যগ্রহণ হতে পারে।
১২ আগস্টের এই গ্রহণের পূর্ণগ্রাসের পথ শুরু হবে আর্কটিক অঞ্চল থেকে। এরপর চাঁদের ছায়া গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড পেরিয়ে স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এসব অঞ্চলের কিছু জায়গায় সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে থাকবে।
শুধু পূর্ণগ্রাসের পথেই নয়, পশ্চিম ইউরোপের লন্ডন ও প্যারিসসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার কিছু অঞ্চল এবং আলাস্কা, উত্তর-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কয়েকটি এলাকাতেও সূর্যের একটি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।
তবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এই গ্রহণের দৃশ্যমান এলাকার বাইরে। ফলে দেশের কোনো স্থান থেকেই ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ থেকে পরবর্তী সূর্যগ্রহণ কবে?
ঢাকা থেকে পরবর্তী দৃশ্যমান সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে ২০২৭ সালের ২ আগস্ট। তবে সেটিও পূর্ণগ্রাস হবে না। এটি হবে একটি আংশিক সূর্যগ্রহণ, যেখানে ঢাকার আকাশ থেকে সূর্যের মাত্র প্রায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ অংশ চাঁদের আড়ালে যাবে।
সেদিন ঢাকার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১২ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে গ্রহণটি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এটি হবে আগামী দুই দশকে ঢাকা থেকে দৃশ্যমান একাধিক আংশিক সূর্যগ্রহণের ধারাবাহিকতার প্রথম দিকের একটি ঘটনা। তবে ওই সময়ের কোনো গ্রহণই ঢাকা থেকে পূর্ণগ্রাস হিসেবে দেখা যাবে না।
সামনে আরও বড় সূর্যগ্রহণ
২০২৭ সালের গ্রহণটি তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও পরবর্তী বছরগুলোতে ঢাকা থেকে দেখা যাবে এমন কয়েকটি সূর্যগ্রহণে সূর্যের আরও বড় অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যেতে পারে।
অর্থাৎ, ১২ আগস্টের মহাজাগতিক দৃশ্য বাংলাদেশ থেকে দেখা না গেলেও ভবিষ্যতে দেশের আকাশ থেকেই আরও উল্লেখযোগ্য সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ তৈরি হবে।
