ঢাকার অসংখ্য শহুরে কিংবদন্তির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত গল্পগুলোর একটি হলো এয়ারপোর্ট রোডের সাদা শাড়ির নারী। বহু বছর ধরে গভীর রাতে চলাচল করা চালক ও পথচারীদের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই রহস্যময় কাহিনি। তবে শুরুতেই বলে রাখা ভালো—এটি একটি লোককথা বা আরবান লেজেন্ড, বাস্তব প্রমাণিত ঘটনা নয়।
প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে পরিচয় দেওয়া ইমরান জানান, এক রাতে তিনি গাড়ি চালিয়ে জসিমউদ্দিন অ্যাভিনিউয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে সাদা শাড়ি পরা এক নারীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সেই অবয়ব দ্রুত তার গাড়ির দিকে ছুটে আসে। আতঙ্কে তিনি জোরে ব্রেক করেন। কিন্তু গাড়ি থামিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখেন—সেখানে আর কেউ নেই।
এমন অভিজ্ঞতার কথা শুধু ইমরানই নন, আরও অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও লোকমুখে বর্ণনা করেছেন। মেহরাব নামে একজন লিখেছেন, নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে তার এক বন্ধু একই রাস্তায় ওই নারীর অবয়ব দেখেছিল। তাদের দাবি, গাড়ি না থামানোর পরপরই রহস্যজনকভাবে টায়ার পাংচার হয়ে যায়।
আরও ভয়াবহ একটি গল্প শেয়ার করেছেন শামিম নামে এক ব্যক্তি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে বাইকে ফেরার সময় হঠাৎ সাদা শাড়ি পরা এক নারী সামনে চলে আসেন। চালক ব্রেক করলেও সংঘর্ষ এড়ানো যায়নি, আর তার বন্ধু প্রাণ হারান। যদিও এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লোককথার সবচেয়ে প্রচলিত সংস্করণটি বলছে, বহু বছর আগে এয়ারপোর্ট রোডে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী ও তার সন্তান মারা যান। তারপর থেকেই নাকি সেই নারীর আত্মা মাঝরাতে চালকদের সামনে হাজির হয়। এই গল্পের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই, তবুও কিংবদন্তিটি আজও ঢাকার ভৌতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে টিকে আছে।
এয়ারপোর্ট রোড ছাড়াও ধানমন্ডি, পুরান ঢাকা ও রাজধানীর আরও কয়েকটি এলাকাকে ঘিরেও রয়েছে এমন অসংখ্য রহস্যময় কাহিনি, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মানুষের কৌতূহল জাগিয়ে রেখেছে।
নোট: এটি লোককথা/আরবান লেজেন্ডভিত্তিক গল্প। এর ঘটনাগুলো বাস্তব বা প্রমাণিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।
