হাতিয়ার ফার্মেসিতে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, জনতার হাতে আটক অভিযুক্ত
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় তৃতীয় শ্রেণির এক শিশুকে ফার্মেসিতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. হেলাল উদ্দিন (৪২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন, যিনি হেলাল মাস্টার নামেও পরিচিত, আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা এবং বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন। পুলিশ জানায়, তিনি কয়েক বছর আগে স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন, তবে ২–৩ বছর আগে সেই পেশা ছেড়ে দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, সকালে কৌশলে ৯ বছর বয়সী শিশুটিকে নিজের দোকানে ডেকে নেন হেলাল। পরে দোকানের পেছনের অংশে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করলে জনতা তাকে ধরে চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে হস্তান্তর করে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট একই এলাকায় আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগেও হেলালের বিরুদ্ধে সালিশ হয়েছিল। সে সময় তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০ বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
এদিকে হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা দাবি করেছেন, হেলাল জামায়াতের কোনো কর্মী নন। তার ভাষ্য, তিনি আগে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সরকার পরিবর্তনের পর নিজেকে জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেন।
চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সালাউদ্দিন রাসেদ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার হাতিয়া থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হাতিয়া থানার ওসি কবির হোসেন জানান, শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করবেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
