যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যখন পুনর্গঠনের দিকে এগোবে, তখন সেখানে বিভিন্ন খাতে শ্রমিকের প্রয়োজন বাড়তে পারে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ তথ্য জানানো হয়। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।
সংসদে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও নতুন শ্রমবাজার খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শ্রমিকের চাহিদা তৈরি হলে বাংলাদেশ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর বিষয়ে আশাবাদ
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়েও আশার কথা জানিয়েছে সরকার। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর এবং এরপর জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সফরের ফলে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সরকার আশা করছে, এসব কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে খুব শিগগিরই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার পথ আরও সহজ হবে।
এক বছরে বিদেশে প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি
সংসদে দেওয়া তথ্যে আরও জানা যায়, গত অর্থবছরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১২০ জন বাংলাদেশি।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরবে—৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬২ জন। এছাড়া কাতারে ৮৯ হাজার ২৩ জন, সিঙ্গাপুরে ৭৫ হাজার ৪১ জন, মালদ্বীপে ৪২ হাজার ১৩০ জন এবং কুয়েতে ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য পাড়ি দিয়েছেন।
