বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নববধূকে ঘরে তুলেছিলেন ২২ বছর বয়সী আহমেদ আনাস। পরদিন ছিল বউভাতের আয়োজন, অতিথিদের জন্য চলছিল শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কিন্তু আনন্দঘন সেই রাতই মুহূর্তে পরিণত হয় শোকে—বাড়ির উঠানে স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনাস স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই মাস আগে আনাস ও সাইরা খাতুনের কাবিন সম্পন্ন হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইরাকে স্বামীর বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। নববধূ সাইরা উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর গ্রামের সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
শুক্রবার দুপুরে বউভাত উপলক্ষে বড় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। বিকেল থেকেই বাড়ির উঠানে প্যান্ডেল নির্মাণ, অতিথিদের বসার ব্যবস্থা ও রান্নার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন স্বজনরা। আনাসও পুরো আয়োজন তদারকি করছিলেন।
রাত ১১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে কিছু সময় কাজ ব্যাহত হয়। পরে বিদ্যুৎ ফিরে এলে আনাস একটি স্ট্যান্ড ফ্যানের পাশে বসেন। বাতাস ঠিকমতো না লাগায় ফ্যানটি সরানোর চেষ্টা করলে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিয়েবাড়ির আনন্দ মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায়। যে উঠানে কিছুক্ষণ আগেও গান আর অতিথিদের কোলাহল ছিল, সেখানে শুরু হয় কান্না ও আহাজারি। স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন নববধূ সাইরা।
শোকাহত বাবা ইউসুফ আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তাদের ঘরে আনন্দের উৎসব চলছিল, কিন্তু এক মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল। ছেলে ও পুত্রবধূ একসঙ্গে উঠানে বসে ছিলেন, বাসর ঘরেও যেতে পারেননি—এর আগেই ঘটে গেল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
